Thursday, November 19, 2020

বিশ্ব পুরুষ দিবস।

বিশ্ব পুরুষ দিবস (২০২০)
===================

- মেয়েদের মত এমন ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদিস না তো। আর ভাল লাগছে না কিন্তু। আর কতদিন এভাবে মনমরা হয়ে থাকবি? ছাড়, অনেক হয়েছে। যে শালা তোর মত ছেলেকে চিনল না, তার জন্য তুই কিনা সব ছেড়েছুড়ে শুধু কেঁদেই যাবি?  

কথাগুলো বলেছিল অর্নব, আমার খুব ছোটবেলার বন্ধু। একসাথে এক স্কুলে পড়া, একই কলেজ, একই স্ট্রিম, খুব কাছের বন্ধু। তখন সদ্য ১৮ ছুঁয়েছি। ভালোবেসেছিলাম। ৫ বছর ধরে একই ব্যাচে পড়া একটি মেয়েকে। কথা হয়নি কখনও,  শুধুই দেখা আর ভাবতে থাকা। সে জানতও না। বলা হয়ে ওঠেনি কখনও।  

হ্যাঁ, আমরা পুরুষেরাও ভালোবেসে কাঁদি। বলতে না পারার যন্ত্রনায় কাঁদি। পেয়ে হারানোর যন্ত্রনায় কাঁদি। আর ওই যে "মেয়েদের মত" শব্দটা বলেছিল, আজ আমার তাতে খুব আপত্তি। ওই শব্দটায় মেয়েদের খুব ছোট করা হয়, অপমান করা হয়। তখন হয়ত না বুঝেই বলেছিল, এতটা গভীরে বোঝার ক্ষমতা আমাদের কারোরই ছিল না তখন। আজও কি সবার আছে? 

না, আমরা সবাই বুঝি না। পুরুষ ও নারী,  তফাৎ  শুধু Biological.  সত্ত্বা একটি, Human Being. শুধু শরীর পুরুষ আর নারীর।  প্যান্টের ভিতরে কী আছে, তার ভিত্তিতে শুধুমাত্র বাথরুম আর বেডরুম আলাদা করা যেতে পারে, বাকি সর্বত্র তারা সমান। অন্তত,  সমান হওয়া উচিত। তাই ছেলেদের কান্নাকে মেয়েদের মত বলে নারী পুরুষ দুজনকেই অপমান করতে হয়না। 

কথায় বলে, মর্দ কো দর্দ নেহি হোতা। ছোটবেলা থেকে মজ্জায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, তুই না ছেলে!  তোর আবার কষ্ট কিসের?  তোকে তো এটা পারতেই হবে। পড়াশুনা করে বড় হতেই হবে, চাকরি পেতেই হবে, উপার্জন করতেই হবে, বাবা মাকে দেখাশোনা করতেই হবে, যদি একসন্তানকে বিয়ে করে থাকো, আজ না হোক কাল, তাদের দেখাশোনা করতেই হবে, স্ত্রী সন্তানের দায়িত্ব নিতেই হবে, সবার প্রয়োজন মেটাতে হবে। কত? আর কত? 

যে ছেলেটা প্রাইভেট চাকরিতে টার্গেট পূরন করতে না পেরে বসের বকুনি খায় এভাবে - 
- কী মিস্টার বিশ্বাস, এত পুওর পারফরম্যান্স!  কাল তো অফিসেও আসেননি?  কেন?  
- স্যার, মিসেসের শরীর খারাপ, বাড়িতে ছোট বাচ্চা.... 

কথা শেষ হওয়ার আগেই ছুটে আসে - 

- তাহলে বাড়ি গিয়ে মিসেসের আঁচলের তলায় গিয়ে রেস্ট নিন। 

সেই মুহূর্তে ছেলেটির মনে হয়েছে, জুতিয়ে বসের মুখ লম্বা করে দেয়। মনে হয়েছে, রেজিগনেশন লেটার টি মুখের উপর ছুঁড়ে বলে, 

- রইল তোর বালের চাকরি।  

( এখানে বা..  লিখে ডট ডট দিলাম না, সকলের পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত শব্দ,  লুকোনোর কিছু নেই)  

কিন্তু অসুস্থ স্ত্রী,  সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা মায়ের মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আর বর্তমানে চাকরির বাজারের অবস্থা তার অজানা নয়। তাই হাসিমুখে বলে,  

- আর এমন হবেনা স্যার। দেখবেন, আর হবে না। 

মাথা নীচু করে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়। কান্না পায়, প্রবল ভাবে কান্না পায়, নিজের মাথা দেওয়ালে ঠুকে ফাটিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কিছুই করতে পারে না। কথা দিয়ে এসেছে, ফেরার সময় স্ত্রীর ওষুধ আর বাচ্চার খাবার নিয়ে ফিরবে। 

কত পুরুষ প্রতিনিয়ত এভাবে মুখ বুজে অপমানিত হয়, তার হিসেব কে রাখে। 

পরিসংখ্যান বলছে,  নিজের বাড়ি ছাড়া মানুষের  মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি।  মেয়েরা সামাজিক নিয়মে বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে বাবার বাড়ি ছেড়ে যায়। বাবা মায়ের থেকে physically দূরে থাকে। আর কত পুরুষ যে একই বাড়িতে থেকেও, একই ছাদের নীচে থেকেও বাবা মায়ের সাথে লুকিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়, সে হিসেব কজন রাখে। বহু পুরুষ তার নিজের উপার্জন থেকে তার বাবা মায়ের দেখাশোনা পর্যন্ত  করতে পারে না। পুরুষ প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হয়, তার নিজের পরিবারেই। বাইরের জগৎ ছেড়েই দিলাম।  

পরিসংখ্যান বলছে, ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি।  হবে না-ই বা কেন। ঘরে বাইরে বোকার হদ্দের মত এত চাপ কে সামলায়। আমার তো পুরুষদের কলুর বলদ বলে মনে হয়। শুধুমাত্র প্রয়োজন মেটানোর যন্ত্র।   তাতেই খুশি।  আমার স্ত্রী,  আমার সন্তান,  আমার ঘরবাড়ি,  নে শালা খেটে মর। কিচ্ছু তোর না। যেদিন বুঝবি, সোজা ডিপ্রেশনের 2nd stage পার হয়ে যাবে। 

পরিসংখ্যান বলছে, সুইসাইড করা মানুষের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি।  ওই যে বললাম, চাপ নিতে নিতে আর পূরণ করতে করতে যখন হাফিয়ে ওঠে, সবার চাহিদার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে আর যখন পারে না, নিজের সাথে লড়তে লড়তে হেরে যায়, ব্যাস, লে ভগবান, মুঝে উঠা লে বলে ঝুলে পড়ে। কাহানি খতম।

পরিসংখ্যান বলছে, গৃহহীন মানুষের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। অপরাধপ্রবন মানুষের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি।  জেলে যাওয়া মানুষের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি।  নির্যাতনের নিরিখে পুরুষের সংখ্যা বেশি।  এটা পরিসংখ্যান বলে না। তার যথাযথ রেকর্ড নেই। 

আমি একটা ব্যাপার লক্ষ্য  করি। নিত্য অফিস যাতায়াতের পথে দেখি, ট্রেন যাত্রী পুরুষদের দেখি, ৪০ পার করা অধিকাংশ পুরুষ বিমর্ষ,  প্রানহীন, উৎসাহহীন, যেন চলতে হয় তাই চলছে। শরীরকে টেনে নিয়ে চলছে, মাথায় বিরাট কিছু দায়িত্বভার নিয়ে। স্বাভাবিক, খুব স্বাভাবিক। পারিবারিক বিবাদ সামলাতে হয় না, এমম পুরুষ বিরল এবং তারা অবশ্যই সৌভাগ্যবান।  স্ত্রী ও মায়ের মাঝে পড়ে চিঁড়ে-চ্যাপ্টা হতে হয়না, বা হতে হয়নি, এমন পুরুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।  তারা ভাল থাকবে কীভাবে? এই মানসিক নির্যাতনের কোনও রেকর্ড নেই। তাহলে সব রেকর্ড এক নিমেষেই ব্রেক হত। 

এত সব সয়েও তাদের বাইরে হাসি মুখে, মন শক্ত রেখে, অসীম সহ্যশক্তির প্রমান দিয়ে পরিবারকে চালাতে হয়, তাদের আর প্রানোচ্ছাস থাকবে কোথা থেকে। জীবনকে পড়ার, বোঝার আর ব্যালেন্স করে চালানোর ক্ষমতা সবার সমান হয় না। তাই অনেকে হেরে যায়, অনেকে হারিয়ে যায়। 

তাই সবার সব দিবস ঘটা করে উদযাপিত হলে পুরুষ দিবস যেন উপেক্ষিতই থেকে যায়, বরাবর ঠিক যেভাবে পুরুষের মন, আবেগ, যন্ত্রণা,  কষ্ট,  কান্না, লজ্জা, গ্লানি,  নির্যাতন,  এমনকি ধর্ষণও উপেক্ষিত থেকে এসেছে বরাবর। হ্যাঁ, মানতে শিখুন, বিশ্বাস করতে শিখুন, পুরুষেরাও ধর্ষিত হয়। 

আজ তাই আমার জীবন জুড়ে, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র,  ও বিশ্বজুড়ে যত পুরুষ,  তাদের সবার জন্য ভালোবাসা রইল। ভাল থাকুক সকল ছেলেরা, ভাইয়েরা, দাদারা, বাবারা, স্বামীরা, দাদুরা। 

আসলে চাই, সকল মানুষ ভাল থাকুক। আজ পুরুষের দিন, তাই শুধু পুরুষের কথাই লিখলাম। 

ধন্যবাদ। 
শুভরাত্রি।

Wednesday, November 18, 2020

সপ্তম বিবাহবার্ষিকী ২০২০

সপ্তম বিবাহবার্ষিকী (  ২০২০) 
=====================

অসাধারণ সুন্দর ভাবে কাটালাম এবারের বিবাহবার্ষিকী।  যেটা সবাই করে, সেটা সাধারন, আর যেটা প্রায় কেউ করে না, করার কথা ভাবেও না, সেটা অসাধারণ।  আমারটিও তাই -ই। কেউ কেক,  ফুল, মিষ্টি নিয়ে, দুজন দুজনকে গিফট দিয়ে এই দিন পালন করে আবার কেউ বা কোথাও বেড়াতে গিয়ে দিনটি উদযাপন করে।  মানে বিশেষ কিছু একটা করে, মনে রাখার মত। আর আমি যেভাবে কাটালাম, তাতে যে কোনও স্বামী,  বৌএর হাতে মার খাবে। আমি সব দিনক্ষণ ভুলেই গেছি। মাথায় ছিল ১৪ থেকে ১৭ তারিখ অফিস ছুটি, ১৮ তারিখে অফিস খুলে আবার ৪ দিন ছুটি, সেই ২৩ তারিখ অফিস খুলবে। তাই ১৮ তারিখ অফিস যেতেই হবে, করোনা পরিস্থিতি,  অফিসের ইনচার্জ পরিবর্তন,  স্টাফের শ্বশুর মশাইয়ের মৃত্যু ও সেই কারনে তার অফিসে না আসতে পারা, সব মিলিয়ে মাথায় শুধু অফিসই চেপে ছিল। এখন স্টাফ মাত্র তিনজন  ও এক অফিসার, সেও আবার নতুন, তার সাথে একদিন মাত্র কথা হয়েছে, এবং সে করোনা আক্রান্ত, আসবে কিনা জানা নেই, এমন অবস্থায় মাথায় অফিস ছাড়া কিছুই ছিল না। 

তাই কাল মানে মঙ্গলবার রাতে ওকে বলে রাখি, কাল সকালে তাড়াতাড়ি ডেকে দিও, অফিস আছে, দেরি করলে ট্রেন পাবনা। এতদিন না হয় বাইকে গেছি নিজের মত করে,  একসময় বেরোলেই হল। ও রাতে বলল, 
- কাল অফিস না গেলে হয়না? 
- তা কী করে হয়? যেতে হবে।  
- আর কেউ নেই?  
- আমি ছাড়া কে যাবে?  তুমি তো সব জানো। 

ও আমার অফিস সংক্রান্ত সব কিছু জানে আর সবাইকে চেনেও, আমার গল্প করার সাথী ও আর মেয়ে। আর ফোনে বাবা,  মা। ও আবার বলল, 
- সব দায় কী তোমার?  
- দায় নয়, যেতে হবে, সবাই নানা অসুবিধার মধ্যে আছে। কাউকে তো সামলাতেই হয়, সে না হয় আমিই গেলাম। 
- যাও, কী আর বলব। 

ব্যাস, ওর রাগ হয়ে গেল। সব বুঝেও রাগ করবে। আমি চুপ করে ঘুমোনোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু অভ্যাস এমন হয়ে গেছে, ২ টোর আগে ঘুম আসেনা, আর সকাল ১০ টার আগে ঘুম ভাঙে না। এমন না যে জেগে শুয়ে থাকি ইচ্ছে করে, তা কিন্তু নয়।  অফিস থাকলে জোর করে উঠতে হয়। যাইহোক,  ঘুমোনোর চেষ্টা করলাম। তখন আমার বিন্দুমাত্র মনে নেই, কাল বিবাহবার্ষিকী।  ১৮ তারিখ মনে আছে। তার সাথে যুক্ত ঘটনা গুলো মনে নেই। 

ও রাতে বসে ভিডিও এডিট করছিল। দুদিন আগে আমার থেকে শিখেছে,  নানা জায়গায় আটকে যায়। রাত তখন প্রায় ১ টা। আমি প্রায় ঘুমিয়েছি। ও বলল, 
- আমি এটুকু জায়গায় মিউজিক অ্যাড করতে চাই। কেমন করে করব?  

ঘুমটা ভেঙে গেল। কোনও রকমে ঘুমের চোখে বলে দিলাম, এই এই কর, হয়ে যাবে। আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পরে, 

- আমি এইটুকু জায়গায় কথাটা বন্ধ করতে চাই, কিভাবে করব? 

আবার গেল ঘুমটা কেটে। 
- যেখান থেকে অফ করতে চাও, তার আগে পরে split করে মাঝের audio off করে দাও। 

বলে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।  

কিছুক্ষণ পরে আবার, পুরো ক্লিপের এইটুকু জুম  করতে চাই। দেখো, ঠিক এইটুকু।  

এবার গেলাম রেগে, প্রকাশ নেই, বললাম নিয়ে আস দেখি। 
- সামনে পেছনে split দাও, মাঝের টুকু select করে pan & zoom এ গিয়ে করে নাও। 

বলে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। এগুলো সব ওকে আগেও দেখিয়েছি, জানি সড়গড় হতে সময় লাগবে। কিন্তু আমার মাথায় ছিল, কাল তাড়াতাড়ি উঠতে হবে। তাই ঘুমিয়ে নিচ্ছিলাম।  রাত প্রায় ২ টো তখন,  

- Description এ কী লিখব, বলবে?  
- হু?  
- বলছি, upload হয়ে গেছে, description এ কী লিখব, বলবে? 

রাগের না হয় প্রকাশ নেই, কিন্তু কথা বলার ধরন গেছে পালটে, সেভাবেই বললাম, 
- ভিডিও তে যা যা আছে, সেগুলোই সংক্ষেপে লিখে দাও। ব্যাস। 

এটা একটু জোরে করে বলা হল। আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।  

কিছুক্ষন পরে,  

- ট্যাগ কী দেব, বলবে?  
- তুই রাখতো তোর ভিডিও। কাল সকালে করিস। ঘুমোতে দে। আগের গুলো দেখে নে। 

এই বলে একেবারে কম্বল চাপা দিলাম।  

সকাল ৮ টায় ঘুম থেকে উঠে বাইরে যেতেই ওর মুখোমুখি,  ও বলল, 

- আমি তোর উপর রাগ করি। 
- কেন রে?  
- কাল তুই আমার উপর খুব খ্যাট খ্যাট করেছিস। 
- কোথায় করলাম, সব তো ভাল করেই বলে দিলাম। 
- আমি সব বুঝি। 
- বুঝেছিস, ভাল করেছিস, তোকে ফার্স্ট প্রাইজ দেওয়া হবে। 
- ইয়ার্কি করবি না একদম। 
- জলটল ভরেছ গো। 
- সব রেডি আছে, যা। 

ওর মুখ ভার। আমার তখনও মনে হয়নি আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকী।  মনেই নেই। 

আমি তাড়াতাড়ি স্নান খাওয়াদাওয়া করে নিলাম আর ও আমার সাথে তাল দিয়ে সব কিছুর যোগান দিতে থাকল, যেমনটি করে আসছে ৭ বছর ধরে। ৯টা ১০ এ ট্রেন, আমি ৯ টা ৪ এ বাইক স্টার্ট দিলাম, আবার টিকিট কাটতে হবে, রোজ যেহেতু অফিস নেই, মান্থলি দরকার হয়না, আবার UTS App ও কাজ করছে না, তাই online এ কাটতে পারছি না। অসুবিধা হল না, কম লোক থাকায় সব ঠিকঠাক হয়ে গেল। 

এবারে ট্রেনে উঠে অভ্যাসের কারনে ফেসবুক খুললাম, তিন বছর আগের করা আমার পোস্ট ভেসে এল। তখন বুঝলাম, ওরে বাবা, আজ যে আমাদের বিবাহবার্ষিকী। যাইহোক,  ছবিগুলো দেখলাম, খারাপ লাগছিল না। 

যথারীতি অফিস করে সন্ধ্যা ৬ টায় বাড়ি ফিরে স্নান করে খেয়েদেয়ে এটা লিখতে বসলাম। তার আগেই দেখেছি, ফেসবুকে ও আমার সেই তিনবছর আগের পোস্ট শেয়ার করেছে। ট্রেনে আসতে আসতে ভাবছিলাম, আজ ও নিশ্চয়ই আমার জন্য বিশেষ কিছু বানিয়ে রাখবে। যেমনটি ওর অভ্যাস আর কি। খেতে বসে দেখি, ওমা, ভাত, পোনা মাছের ঝোল, আলুসিদ্ধ,  আর ডিমভাজা। আমি বললাম, 

- কীরে বুড়ো, আজ এমন নিরামিষ খাওয়াদাওয়া যে?  
- কোথায় নিরামিষ দেখলি? 
- এগুলোকে আবার নিরামিষ ছাড়া কী বলব?  
- ভাল খেতে খেতে তোর গলা হাই রেঞ্জে চলে গেছে। 
- হ, তোরে কইসে। 
- তাহলে তুই মাছ, ডিমভাজা কে নিরামিষ দেখিস কোন চোখে?  
- এই সব মাছ এখন নিরামিষ বলেই মনে হয়। 
- নে, আজ একটু কষ্ট করে খেয়ে নে, কাল ভাল কিছু বানিয়ে দেব। মাংস আনতে গিয়েছিলাম রে, তখন ছিল না। 

খেতে খেতেই রাজু দার ( আমার জামাইবাবু)  সাথে কথা হয়, ভিডিও কলে। বাবা, মা'র সাথেও কথা হল। ব্যাস দিন শেষ।  আর এখন ও বসে বসে ভিডিও এডিট করছে আর আমি লিখছি। মেয়ে ৮ টার সময় ঘুমিয়ে পড়েছে। 

এতটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। 
শুভরাত্রি।

পুনশ্চঃ - এই লেখাটি upload এর পরে ও পড়ে খুব হাসল পাঁচ মিনিট ধরে, আমিও বিশাল হাসলাম। বলল, কী সব লিখেছিস?  আমি বললাম, তোর স্বামী তো শালা ঔপন্যাসিক,  তুই জানিস না?  তোর স্বামী তো মেলাকিছু। 
আবার একপ্রস্ত হাসাহাসি।